শেকৃবিতে রমজানব্যাপী কোরআন শিক্ষাদান কর্মসূচি

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)-এর কেন্দ্রীয় মসজিদের উদ্যোগে মাসব্যাপী কোরআন শিক্ষাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ছোট-বড় সবার জন্য উন্মুক্ত এ কোর্সটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন আছরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মসজিদেই ইফতারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


কোর্সটিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকেন্দ্রিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা মনে করেন, ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের মাঝেও কোরআন শিক্ষা গ্রহণের এমন সুযোগ শিক্ষার্থীদের আত্মিক উন্নয়ন ও শুদ্ধ তিলাওয়াত চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও যেন এ আয়োজন নিয়মিতভাবে চালু থাকে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।

 

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মসজিদ কেবল নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি একটি সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। মসজিদের দায়িত্ব কেবল ইবাদতের পরিবেশ নিশ্চিত করা নয়, বরং মুসল্লিদের ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিকতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি আরও বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, আমাদের অনেকেই বিশুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াত করতে পারি না। এমনকি ভুল তিলাওয়াত নামাজ ভঙ্গের কারণও হতে পারে। এই চিন্তা থেকেই আগ্রহীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছি।”

 

অর্থায়নের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ কার্যক্রমের জন্য মসজিদের আলাদা কোনো তহবিল নেই। পরিচালনা কমিটির সদস্য ও নিয়মিত মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক বা বাহ্যিক সংগঠন থেকে অর্থায়ন নেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

ড. রফিকুল ইসলাম ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মসজিদকে সমাজের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করা উচিত। আর্থিক সংকট, শিক্ষা সহায়তা, বিবাহ সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা অন্যান্য সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মসজিদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন,“আজ আমি দায়িত্বে আছি, কাল হয়তো থাকবো না। তবে আমার আহ্বান থাকবে মসজিদ যেন সামাজিক সমস্যার সমাধানের কেন্দ্র হয়ে ওঠে,”

 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন একটি উদ্যোগ ইতোমধ্যেই ইতিবাচক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দাতাদের সহযোগিতায় রমজানব্যাপী এ কোরআন শিক্ষাদান কর্মসূচি আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

 

মামুন/তাসনিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *