আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠ ফেরত চায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা জমির বরাদ্দ পাচ্ছেন না স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি এর শিক্ষার্থীরা। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত জমি না থাকার কারণে মানসম্মত গবেষণায় বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। শুরুর আগেই আটকে যাচ্ছে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অনেক গবেষণা কার্যক্রম।

সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) পরিবারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে তারা মাঠে সমাবেশ করে দ্রুত জমি হস্তান্তরের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গবেষণা কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই আটকে যাচ্ছে। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য—এই তিনটি খাতেই উচ্চতর গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জমির ঘাটতি দিন দিন প্রকট হচ্ছে। তারা সতর্ক করে বলেন, কৃষি গবেষণায় বাধা সৃষ্টি হলে তা জাতীয় সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

মাঠ পুন:উদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শেকৃবি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান নয়; এটি হাজারো শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও প্রায় ২০ হাজার সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি জাতীয় শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। অতীতে সরকারি সিদ্ধান্তে মাঠটি অধিগ্রহণ করা হলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে জমি ফেরত দেওয়া সময়ের দাবি।

জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯২০ সালের কলকাতা গেজেট অনুযায়ী মাঠটি তৎকালীন বেঙ্গল এগ্রিকালচার ইনস্টিটিউটের অধীনে ছিল, যা পরবর্তীতে শেকৃবিতে রূপান্তরিত হয়। দেশের কৃষি উন্নয়ন ও উচ্চতর গবেষণার স্বার্থে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।

জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসেন জানান, মাঠটিতে একসময় বিশ্ববিদ্যালয় পোলট্রি ও ক্যাটেল ফার্মসহ বিভিন্ন শিক্ষা-গবেষণা অবকাঠামো ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণের সঙ্গে গবেষণার চাহিদাও বেড়েছে। মাঠ পুনরুদ্ধার হলে সেখানে কোনো স্থায়ী ভবন নয়, বরং কৃষি গবেষণার প্লট গড়ে তোলা হবে। সমাবেশে জানানো হয়, মাঠটি চারটি অনুষদের মধ্যে গবেষণা প্লট আকারে ভাগ করে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শুধু কৃষি অনুষদের জন্য প্রায় ৮ একর চাষযোগ্য জমি রয়েছে, যেখানে রবি মৌসুমে ১৩০ জন শিক্ষার্থী প্লটের জন্য আবেদন করেছেন। অথচ প্রয়োজন অন্তত ১৬ একর। অন্যদিকে এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন এবং ফিশারিজ অনুষদের জন্য পৃথক গবেষণা জমি প্রায় নেই বললেই চলে। এএসভিএম অনুষদের জন্য মাত্র ৬৬ শতাংশ জমিতে একটি ছোট মিনি চিড়িয়াখানা রয়েছে, যা গবেষণা ও প্রাণী ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত নয়। ডেইরি, এনিম্যাল প্রোডাকশন ফার্ম কিংবা চারণভূমিরও স্বতন্ত্র ব্যবস্থা নেই।
ফিশারিজ অনুষদের ক্ষেত্রে কোনো পৃথক গবেষণা পুকুর না থাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের পুকুরেই সীমিত পরিসরে গবেষণা চালাতে হচ্ছে। পানির মান নিয়ন্ত্রণ কঠিন হওয়ায় মৌলিক গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান খামার ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মোহাম্মাদ লুতফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের বিপুল চাহিদার বিপরীতে জমি অর্ধেকেরও কম। ফলে মৌসুমভিত্তিক গবেষণায় সুপারভাইজারদের বাছাই করে শিক্ষার্থী নির্ধারণ করতে হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক গবেষণা কার্যক্রম কমে যাচ্ছে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফ বলেন, আমাদের যেহেতু কৃষি বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষিকে মানসম্পন্ন করতে প্রচুর গবেষণা প্রয়োজন। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে খড়া সহিঞ্চু জাত উদ্ভাবনে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা গবেষণা করতে ইচ্ছুক কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত যায়গা দিতে পারছি না। এই মাঠটি আমাদেরই ছিল, আমরা নতুব কোন জমি চাচ্ছি না। আমাদের জমি, আমাদের অধিকারই আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *