পুরোনো বন্ধুত্বের টানে শেকৃবিতে ‘শৌহার্দ্য-৪৯’ ব্যাচের পুনর্মিলনী

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম ব্যাচ ‘শৌহার্দ্য-৪৯’-এর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ‘রিইউনিয়ন-২০২৬’। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে শুক্রবার সকালে শুরু হয় দিনব্যাপী এ স্মৃতিচারণ ও মিলনমেলা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসান ওয়ারেসুল কবীরের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। পরে প্রয়াত সহপাঠীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন ড. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। এতে সভাপতিত্ব করেন শৌহার্দ্য-৪৯ ব্যাচ পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নাজনীন সুলতানা।

দীর্ঘদিন পর একত্রিত হয়ে সাবেক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ, পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোনো বন্ধুত্বের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার সুযোগ পান। প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, স্মৃতিচারণ, আড্ডা ও আনন্দঘন পরিবেশে পুনর্মিলনীটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

শৌহার্দ্য-৪৯ ব্যাচ পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘আমরা ১০০ জন শিক্ষার্থী ছিলাম। এর মধ্যে ৮০ জন পুনর্মিলনীতে নিবন্ধন করেছেন। দীর্ঘ ৩০ বছর পর বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যারা আজ এখানে এসেছেন, সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।’

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আজও মনে হচ্ছে, আমরা আগের মতো ক্লাস করার জন্য এসেছি। ক্লাস শেষে যে অনুভূতি পাওয়া যেত, যে আড্ডা হতো—মনে হচ্ছে সেই দিনগুলো আবার ফিরে পেয়েছি।’ তিনি জানান, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এবারের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ পুনর্মিলনীর আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে কৃষি, শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের পুনর্মিলনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠলে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শৌহার্দ্য-৪৯ ব্যাচের বিপুলসংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনে স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও মধ্যাহ্নভোজসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শৌহার্দ্য-৪৯ ব্যাচের এই পুনর্মিলনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *