রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বৃহত্তর যশোর ও খুলনা অঞ্চলের ৬০০ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুঁইঝালের গরু ও খাসির মাংসের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যতিক্রমধর্মী খাবার পরিবেশন ছিল ইফতারের মূল আকর্ষণ।
রবিবার (৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ভবনের নিচতলায় এ আয়োজন করা হয়। আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল নিজ অঞ্চলের সুপরিচিত খাবার চুঁইঝালের গরু ও খাসির মাংস। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হয়।
ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা নাজমুল মুন্নী এবং শেকৃবি ছাত্রদল শাখার বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন,
প্রায় আট বছর আগে তিনি এই ধরনের একটি আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন। তখন অংশগ্রহণকারী সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল এবং শিক্ষক উপস্থিতিও সীমিত ছিল। তবে বর্তমান শিক্ষার্থীরা সাহস করে এমন একটি আয়োজন করায় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শফিকুর রহমান নোবেল বলেন,
আজকের দিনে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে চাই না। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে নিজের এলাকার প্রতি একটি আলাদা টান তৈরি হয়।আমাদের এই ছাত্র-ছাত্রী ভাই বোনদের একত্রে ভ্রাতৃত্ব ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতবৃন্দ বলেন, বৃহত্তর যশোর ও খুলনা অঞ্চলের শিক্ষকদের সংখ্যা খুবই কম এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পারস্পরিক যোগাযোগ তুলনামূলক কম দেখা যায়। তাই ভবিষ্যতে ঈদ পুনর্মিলনীর মতো আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা দরকার।
এছাড়া বক্তারা রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সবার মঙ্গল কামনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অর্ঘ্য/তাসনিম