রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের নিয়ে শেকৃবি শিবিরের ইফতার

শেকৃবি ছাত্রশিবির কর্তৃক ক্যাম্পাসের সকল রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন এবং সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেকৃবি শাখার আহবায়ক আসাদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক আনাস বিন সুলায়মান, সদস্য সচিব আল রাকিব, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তৌহিদ আহমেদ আশিক,গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য মনজুরুল ইসলাম পাভেল,  সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম সজল, সাধারণ সম্পাদক তাসনিম আহমেদ তানিম সহ সদস্যবৃন্দ এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের বর্তমান এবং সাবেক নেতৃবৃন্দ।

এসময় ইসলামী ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখার সভাপতি  মেহেদী হাসান নাঈম বলেন,

যদি জুলাই না আসতো, তাহলে হয়তো আজকে আমরা এখানে এভাবে বসে থাকতে পারতাম না, স্বাধীনভাবে কথা বলতেও পারতাম না। জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের কারণেই আজ আমরা একত্রিত হওয়ার এবং নিজেদের মত প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের এই ভূখণ্ডের ইতিহাস অনেক পুরোনো। ১৯৪৭, ১৯৭১ কিংবা ২০২৪—এই সময়গুলো ছাড়াও আমাদের ইতিহাসে রয়েছে অনেক ত্যাগ ও বেদনার অধ্যায়। শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যা কিংবা সাঈদী সাহেবের রায়কে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০ জন মানুষের শহীদ হওয়ার ঘটনাও সেই ইতিহাসের অংশ। এই সব ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে এই জাতি বারবার সংগ্রাম করেছে।

 

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তৌহিদ আহমেদ আশিক,

আমরা দেখতে পাচ্ছি জুলাইয়ে পরাজিত শক্তির মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। প্রায় ২হাজার শহীদ এবং ৩০ হাজার আহত যোদ্ধা, এতকিছুর পরেও তারা এই ঘটনাকে তাদের ভুল মনে করেনা, স্বাভাবিক মনে করে। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। তারা বরাবরই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বাইরে কাজ করেছে। এখনো টেরোরিস্ট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি মনে করি জাতীয় স্বার্থে সকল দল মত নির্বিশেষে এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবিলা করতে হবে।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেকৃবি শাখার আহবায়ক আসাদুল্লাহ বলেন,

এইযে সকল ছাত্রসগঠন এক সাথে কাজ করতেছে এইটা আমাদের জন্য আশার বাণী, এই পরিবেশটা অনেকদিন ছিল না, অন্তত আমরা ক্যাম্পাসে আসার পর দেখিনি যা আমরা গত দেড় দুই বছর যাবৎ দেখছি। আমি বিশ্বাস করি এইরকম ভবিষ্যতেও থাকবে।

কামরুল ইসলাম সজল বলেন,

জুলাইয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিল সকল নেতৃবৃন্দকে আজকে ইসলামী ছাত্রশিবির একত্রিত করেছে, এখানে যারাই উপস্থিত আছে সকলেই জুলাইয়ের যোদ্ধা, সাংবাদিক সমিতির সদস্যরাও ক্যাম্পাস যতদিন খোলা ছিল ক্যাম্পাসে কাজ করেছে, যখন ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেছে তখন ঢাকার বিভিন্ন জায়গাসহ নিজ নিজ এলাকায় কাজ করেছেন।

ইসলামী ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখার সাবেক সভাপতি আবুল হাসান বলেন,

ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমাদেরকে একসাথে ইফতার করতে দেয় নাই। এক সাথে এইরকম প্রোগ্রাম আয়োজন করার স্পেস দেয় নাই। এখন আমরা সে সুযোগ পেয়েছি। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে তবে ফ্যাসিস্ট এর প্রশ্নে সবাই এক। আমরা এমন প্রোগ্রাম আয়োজনের মাধ্যমে একটা মেসেজ ফ্যাসিস্ট এর কাছে দিতে চাই যে তার বিরুদ্ধে আমরা এখনো ঐক্যবদ্ধ আছি।

সবশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

মামুন/সজল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *