জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের হত্যার বিচারের দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘SAU Run For Justice 2.0’।
শনিবার (৩১ আগষ্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে এই সচেতনতামূলক দৌড় প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন, প্রক্টর প্রফেসর ড. আরফান আলী, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. ফিরোজ মাহমুদ, টিএসসি পরিচালক প্রফেসর ড. আক্তার হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ছাত্রী বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন কৃষি অনুষদের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাতাশা জামান, দ্বিতীয় হন অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিনের ২১তম ব্যাচের নাদিয়া এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্টের ২২তম ব্যাচের খাদিজা রুবাইয়াত। অন্যদিকে ছাত্র বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্টের ২৪তম ব্যাচের হাবিবুর রহমান, দ্বিতীয় স্থান দখল করেন একই ব্যাচ ও বিভাগের মুক্ত হেমব্রম এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেন কৃষি অনুষদের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এনায়েত।

আয়োজনটি সম্পর্কে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসাদুল্লাহ নাঈম বলেন,“SAU Run For Justice 2.0 এটি আমাদের দ্বিতীয় বছরের আয়োজন। এটি একটি জুলাই কেন্দ্রিক প্রোগ্রাম। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রোগ্রামটি অনেক সুন্দর হয়েছে। আমরা জুলাই এবং জুলাই শহীদদের স্মরণীয় আয়োজনটি করেছি। শহীদদেরকে স্মরণ রাখার জন্য সকলের জার্সির পিছনে আমরা শহীদের নাম ব্যবহার করেছি যেন সবার কাছে নামগুলো পরিচিত হয়। এবং শহীদ ওসমান হাদী ভাইকে স্মরণ রাখার জন্য টি এস সির সামনের স্থানকে আমরা হাদিস চত্বর নাম দিয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে আমরা জুলাই কে স্মরণ রাখার জন্য এই আয়োজনটা কন্টিনিউ করতে চাচ্ছি। রান ফর জাস্টিসের মাধ্যমে আমরা মেইনলি জুলাই শহীদদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
কেন্দ্রীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান বলেন, “আপনারা দৌড়িয়েছেন সেটা ন্যায় বিচারের জন্য। আপনাদের এই জার্সির পিছনে একেকজন শহীদের নাম লেখা দেখতে পাচ্ছি। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাব, আহ্বান জানাব আপনারা যে যা করেন, যে যেখানে যান, এই শহীদদেরকে যারা মেরেছে, খুনিদের বিচার যাতে বাংলাদেশে হয়, এই ব্যাপারে আপনারা সবসময় সোচ্চার থাকবেন।”

তিনি আরো বলেন,“শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্ররা যারা ছাত্রলীগ করেছে, গণহত্যার পক্ষে সমর্থন জুগিয়েছে এবং কিছু শিক্ষকরা এই গণহত্যায় মদদ দিয়েছিল, তাদেরকে যাতে বিশ্ববিদ্যালযের সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বয়কট করা হয়। এ ব্যাপারে আপনারা সোচ্চার থাকবেন বলে আমি আশা রাখি।”
সমাপনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন ২৪-এর বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, আজকের এই দিনটি, ২৪-এর সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করলেই, সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো যদি আমরা স্মরণ না রাখতে পারি, তাহলে কিন্তু ‘নতুন বাংলাদেশ’ আমরা যেটা চেয়েছিলাম, সে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কিন্তু আমরা পিছিয়ে পড়ব।”
তিনি আরো বলেন, “আমি এক কথায় যদি বলি, ‘জুলাই’ বেঁচে না থাকলে, এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন—সে স্বপ্ন কিন্তু ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।”
নাহীদ হুসাইন/010826