বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি লিওনেল মেসির জন্মদিন উপলক্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উন্মোচন করা হয়েছে মেসির বিশ্বকাপজয়ী মুহূর্তের বৃহদাকার গ্রাফিতি। একই সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থক শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংলগ্ন হলের দেয়ালে অঙ্কিত গ্রাফিতিটি উন্মোচন করা হয়। পরে মেসির ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটে আনন্দ ভাগাভাগি করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে নির্মিত গ্রাফিতিতে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পর বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তুলে ধরা হয়েছে। গ্রাফিতি উন্মোচনের সময় উপস্থিত সমর্থকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আয়োজকরা জানান, বিশ্ব ফুটবলে মেসির অসামান্য অবদান এবং কোটি ভক্তের আবেগকে সম্মান জানাতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলারের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ নয়, বরং ক্যাম্পাসে খেলাধুলা, শিল্পচর্চা ও সৃজনশীলতার সমন্বিত বহিঃপ্রকাশ।

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রনবীর দাস বলেন, “মেসি শুধু আমার নন, পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণার নাম। গত বিশ্বকাপের সময় আমরা ছোট পরিসরে একটি গ্রাফিতি এঁকেছিলাম। তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল আরও বড় ও নান্দনিক একটি গ্রাফিতি নির্মাণের। ক্লাস ও পরীক্ষার ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে সিনিয়র-জুনিয়র মিলে টানা এক সপ্তাহ কঠোর পরিশ্রম করেছি। সেই প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই আজ এই বৃহদাকার গ্রাফিতি বাস্তবে রূপ পেয়েছে।”
শিক্ষার্থী আনাস বিন সোলাইমান বলেন, “বিশ্বকাপের সময় আমরা একটি ছোট গ্রাফিতি করেছিলাম। তখনই স্বপ্ন ছিল, মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে একটি বৃহদাকার গ্রাফিতি নির্মাণ করব। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই আজকের এই আয়োজন। আমরা চাই, এই গ্রাফিতি মেসির প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার একটি স্থায়ী স্মারক হয়ে থাকুক।”
উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, ফুটবলপ্রেমী ও আর্জেন্টিনা সমর্থক অংশ নেন। গ্রাফিতি উন্মোচন ও জন্মদিন উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রিয় ফুটবল তারকার প্রতি নিজেদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তারা।
অর্ঘ্য/SAUJA