বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

বুধবার (১১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফিরোজ মাহমুদ, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশাবুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী, এনিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেকৃবি শাখার নেতৃবৃন্দ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ, শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেন, “জুলাই আন্দোলন ২০২৪-এর যোদ্ধাদের ত্যাগের ফলেই আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা রয়েছে।”

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশবুল হক বলেন, “জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনো আমাদের মাঝে স্পষ্ট। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। তাই তাদের ডাকে আমরা সব সময় সাড়া দিয়ে থাকি।”

এনিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দেশের একটি বড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছি। তাই জুলাইয়ের যোদ্ধাদের স্মরণ করতে হবে এবং শহীদদের জন্য দোয়া করতে হবে। যারা আহত হয়েছেন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা আছেন, তাদের পাশে থাকা আমাদের সবার দায়িত্ব। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু ভুলে যাওয়া হয়, কিন্তু আমাদের উচিত তাদের ত্যাগ কখনো ভুলে না যাওয়া।”

প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফিরোজ মাহমুদ বলেন,

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। ৫ আগস্টের সেই পরিবর্তন না হলে হয়তো আজ আমি এখানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেতাম না। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাস্তবতায় পৌঁছেছি। আমরা আশা করি সরকার জুলাইয়ের চেতনায় দেশ পরিচালনা করবে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন,

 বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শেকৃবির যে শিক্ষার্থীরা স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠেছিলেন, তাদের অনেকেই আজ এখানে উপস্থিত। জুলাই-আগস্টের বিভীষিকাময় দিনগুলো এখনো আমাদের মনে ভাসে। সে সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগে ছিলাম। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর খবর আমাদের ব্যথিত করেছিল। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

 

অর্ঘ্য/সজল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *